সংজ্ঞা
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই বিধিমালায়—
(১) “অধিদপ্তর” অর্থ আইনের ধারা ৩ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন স্থাপিত পরিবেশ অধিদপ্তর;
(২) “আইন” অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১নং আইন);
(৩) ‘‘ইলেকট্রিক্যাল পণ্য” বা “ইলেকট্রনিক পণ্য’’ অর্থ তফসিল ১ এ বর্ণিত এমন পণ্য যাহার উৎপাদন, হস্তান্তর এবং পরিমাপ সংক্রান্ত কার্যকলাপ বিদ্যুৎ শক্তি এবং বিদ্যুৎ চৌম্বকক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল;
(৪) ‘‘ই-বর্জ্য’’ অর্থ তফসিল ১ এ বর্ণিত কোনো ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী যাহার অর্থনৈতিক জীবন সমাপ্ত হইয়াছে অথবা ব্যবহারকারীর নিকট যাহার প্রয়োজন বা উপযোগিতা সমাপ্ত হইয়াছে অথবা যাহা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়িয়াছে বা অপ্রয়োজনীয় বিবেচনায় ফেলিয়া দেয়া হইয়াছে;
(৫) ‘‘ই-বর্জ্যের পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা’’ অর্থ ই-বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, পুনঃব্যবহার এবং পরিত্যজন বা ধ্বংসকরণের সমন্বিত প্রক্রিয়া যাহা পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যকে ই-বর্জ্যের বিরূপ প্রভাব হইতে রক্ষা করে;
(৬) ‘‘চূর্ণকারী (dismantler)’’ অর্থ পরিত্যক্ত বা ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য বা ইহার অংশবিশেষ ভাঙার কাজে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি;
(৭) “তফসিল” অর্থ এই বিধিমালার কোনো তফসিল;
(৮) ‘‘নিবন্ধন’’ অর্থ বিধি ১০ এর অধীন নিবন্ধিত ই-বর্জ্য উৎপাদন, পরিচালনা, সংগ্রহ, গ্রহণ, মজুদ, পরিবহন, প্রক্রিয়াকরণ, পুনঃব্যবহারোপযোগীকরণ, চূর্ণকরণ, পুনঃচক্রায়ন এবং পরিত্যজন বা ধ্বংসকরণের জন্য প্রদত্ত নিবন্ধন;
(৯) ‘‘নিলাম বিক্রয়’’ অর্থ ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য বা পণ্যের অংশবিশেষ টেন্ডার, নিলাম বা ব্যক্তিগত চুক্তির মাধ্যমে ব্যক্তি, কোম্পানি বা সরকারি কোনো বিভাগ কর্তৃক বিক্রয়;
(১০) “পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী (recycler)’’ অর্থ কোনো ব্যক্তি যিনি পুনঃব্যবহারোপযোগী ও পুনরুদ্ধারের জন্য ই-বর্জ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যে নিয়োজিত;
(১১) ‘‘প্রস্তুতকারক’’ অর্থ কোনো ব্যক্তি যিনি—
(ক) নিজস্ব ব্র্যান্ডের অধীন ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন, বিক্রয়, মজুদ ও বিপণন করিয়া থাকেন; বা
(খ) অন্য কোনো প্রস্তুতকারকের বা সরবরাহকারীর ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য নিজ ব্র্যান্ডের অধীন উৎপাদন, বিক্রয়, মজুদ ও বিপণন করিয়া থাকেন;
(১২) ‘‘পরিবহনকারী (transporter)’’ অর্থ আকাশ, রেল, সড়ক বা নৌ পথে ই-বর্জ্য বহনকারী কোনো ব্যক্তি;
(১৩) “ফরম” অর্থ এই বিধিমালার কোনো ফরম;
(১৪) ‘‘বড় ব্যবহারকারী ভোক্তা’’ অর্থ ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের অধিক ব্যবহারকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি দপ্তর, বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান;
(১৫) ‘‘ব্যক্তি’’ অর্থ কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ এবং সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, কোনো কোম্পানি, সমিতি বা সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৬) ‘‘ব্যবসায়ী” বা “বিক্রেতা’’ অর্থ কোনো ব্যক্তি যিনি ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রয় করিয়া থাকেন বা কোনো ভোক্তা, অধিক ব্যবহারকারী, অন্যান্য ব্যবসায়ী বা প্রস্তুতকারকের পক্ষে খুচরা বিক্রেতাগণের নিকট হইতে ই-বর্জ্য ফেরত লইয়া থাকেন;
(১৭) ‘‘মেরামত’’ অর্থ ব্যবহৃত বা পুরাতন ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য পুনরায় ব্যবহার ও বাজারে বিক্রয়ের জন্য মেরামত করা;
(১৮) ‘‘মেরামতকারী (refurbisher)’’ অর্থ মেরামত কাজে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি;
(১৯) ‘‘রপ্তানিকারক’’ অর্থ কোনো ব্যক্তি যিনি ই-বর্জ্য অন্য দেশে রপ্তানি করেন এবং যে দেশ বা দেশের অধীন কোনো স্থান হইতে রপ্তানি করা হয় সেই দেশও রপ্তানিকারক বলিয়া গণ্য হইবে;
(২০) ‘‘লক্ষ্যমাত্রা’’ অর্থ তফসিল ২ এ বর্ণিত লক্ষ্যমাত্রা;
(২১) ‘‘সংগ্রহ কেন্দ্র’’ অর্থ ই-বর্জ্য সংগ্রহের নিমিত্ত স্থাপিত কেন্দ্র; এবং
(২২) ‘‘সংযোজনকারী’’ অর্থ কোনো ব্যক্তি যিনি নিজস্ব ব্র্যান্ডের অধীন ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য সংযোজন, মজুদ ও বিপণন করিয়া থাকেন।
তথ্যসূত্র: ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ — এস. আর. ও. নং ১৮৭-আইন/২০২১, তারিখ ৩ জুন ২০২১; বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১০ জুন ২০২১, গেজেট PDF-এর পৃষ্ঠা ১। মূল গেজেট (PDF)। হালনাগাদ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬।
এই বিধিতে উল্লিখিত বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা: ধারা ৩