প্রচলিত মুদ্রা অথবা কারেন্সী নোট ইত্যাদি দ্বারা মজুরী পরিশোধ
আইনের টেক্সট
১২৪। ১[(১)] সকল মজুরী প্রচলিত মুদ্রা, কারেন্সী নোট অথবা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করিতে হইবে।
২[(২) উপ-ধারা-(১) এ প্রবর্তিত পদ্ধতি ছাড়াও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শ্রমিকের চাহিদা মোতাবেক শ্রমিকের ব্যবহৃত ব্যাংক একাউন্টে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি পরিশোধ করা যাইবে।]
সংশোধনী টীকা (২)
- বিদ্যমান বিধানটি উপ-ধারা (১) হিসাবে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৩৮ ধারাবলে পুনঃসংখ্যায়িত।
- উপ-ধারা (২) বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩০ নং আইন) এর ৩৮ ধারাবলে সংযোজিত।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), ধারা ১২৪ — bdlaws.minlaw.gov.bd। সংকলিত পাঠ: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর) পর্যন্ত। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।
সংশ্লিষ্ট বিধি
সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২, গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
মজুরি ও উহার রেকর্ড সংরক্ষণ
(১) প্রতিটি কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল শ্রমিকদের শ্রমিক রেজিস্টারের ক্রমানুসারে মজুরিকাল অনুযায়ী মজুরি পরিশোধের একটি রেকর্ড ফরম-৩৮ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং মজুরি পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাহার সুবিধা অনুযায়ী উহা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, মজুরি পরিশোধকালে মুদ্রিত কপিতে রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার করিয়া শ্রমিকের স্বাক্ষর গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) যদি কোন শ্রমিক তাহার মজুরি তাহার ব্যাংক হিসাবে গ্রহণ করিতে চাহেন তবে মালিক উহা ব্যাংক চেক অথবা সরাসরি ব্যাংক হস্তান্তর (Bank Transfer) এর মাধ্যমে পরিশোধ করিতে পারিবেন এবং মজুরি স্লিপ প্রদান করিবেন এবং এইক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ মহিলা শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করিবে।
(৩) প্রতি মজুরি মেয়াদে প্রত্যেক শ্রমিককে মজুরি পরিশোধের পূর্বে মালিক ফরম-৩৮ অনুযায়ী একটি মজুরি স্লিপ প্রদান করিবেন যাহাতে শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি, অধিকাল ভাতা, কর্তন (যদি থাকে) ও পরিশোধযোগ্য মোট মজুরি উল্লেখ থাকিবে।
(৪) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যে কোন ধরনের শ্রমিককে কাজে নিয়োজিত করিবার পূর্বেই তাহার মজুরি ঘোষণা করিতে হইবে।
(৫) প্রতিটি কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে যাহারা নিরবিচ্ছিন্নভাবে ১ (এক) বৎসর চাকরি পূর্ণ করিয়াছেন তাহাদেরকে বৎসরে দুইটি উৎসব ভাতা প্রদান করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিটি উৎসব ভাতা মাসিক মূল মজুরির অধিক হইবে না, উহা মজুরির অতিরিক্ত হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(৬) ঠিকাহার বা ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরির হিসাব হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
(ক) কারখানার ফ্লোর ইন-চার্জের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিকট হইতে প্রাথমিক ধারণা নিয়া উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বা মালিক ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরি নির্ধারণ করিবেন;
(খ) ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরি প্রদানকালে প্রত্যেক শ্রমিককে পে-স্লিপ প্রদান করিতে হইবে এবং পে-স্লিপে মজুরির খাতওয়ারী বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকিবে;
(গ) কোন প্রকৃতি (Style) এর ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরির হার সম্পর্কে কোন পর্যায় হইতে কোন আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকিবে;
(ঘ) আংশিক কাজের ক্ষেত্রে শ্রমিককে তাহার প্রাপ্য নির্ধারিত গ্রেডে ন্যূনতম মজুরিতে ঘাটতি থাকিলে উহা মালিক পূরণ করিয়া প্রদান করিবেন;
(ঙ) কাজের স্বল্পতার কারণে কোন মাসে কোন শ্রমিক মাসের সকল কর্মদিবসে উপস্থিত থাকিবার পরও নির্ধারিত গ্রেডের প্রাপ্য ন্যূনতম মজুরি অপেক্ষা কম মজুরি পাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষকে উহা পূরণ করিতে হইবে;
(চ) গ্রেডে প্রাপ্য মজুরি বা ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরির মধ্যে যাহা অধিক হইবে শ্রমিকদেরকে সেই মজুরি প্রদান করিতে হইবে;
(ছ) কারখানায় যদি কাজ না থাকে তাহা হইলে শ্রমিকদের নির্ধারিত গ্রেডের প্রাপ্য মূল মজুরি প্রদান করিতে হইবে;
(জ) ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরি বিষয়ক উপরি-উক্ত বিধানসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হইতেছে কিনা উহা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নজরদারী করিবে।
বিধি ১১১ এর উপ-বিধি (৫) এর শর্তাংশের প্রান্তস্থিত ‘।’ দাড়ি এর পরিবর্তে ‘:’ কোলন প্রতিস্থাপিত হইবে এবং অতঃপর নিম্নরূপ নূতন শর্তাংশ সন্নিবেশিত হইবে, যথা: ‘‘আরও শর্ত থাকে যে, যেই সকল ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত কোনো নিম্নতম মজুরি প্রযোজ্য নয় সেইসকল ক্ষেত্রে শ্রমিকের মূল মজুরি সাকুল্য (মোট) মজুরির ৫০% এর কম হইবে না এবং বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হার মূল মজুরির ৫% এর কম হইবে না। ’’;
মজুরি ও অন্যান্য পাওনাদি সম্পর্কে আপোষ-মীমাংসা
(১) কোন শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি ও অন্যান্য পাওনাদি বে-আইনীভাবে কর্তন বা অনুরূপ কারণে উত্থিত দাবি শ্রমিক নিজে অথবা তাহার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া তাহার পক্ষে প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মালিককে অবহিত করিতে পারিবেন।
(২) মালিক দাবি প্রাপ্তির পরবর্তী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৩) উপ-বিধি (২) অনুযায়ী মালিক ব্যর্থ হইলে দাবি পেশকারী পক্ষ বিষয়টির নিষ্পত্তিকল্পে ধারা ১২৪ (ক) অনুযায়ী মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের নিকট লিখিত আবেদন করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-বিধি (৩) এর অধীন আবেদন পাইবার পর মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করিবার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন এবং বর্ণিত উদ্যোগ গ্রহণ করিবার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আবেদনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করিয়া লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।
(৫) ধারা ১২৪(ক) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক আপোষ মীমাংসাকারী বা মধ্যস্থতাকারী হিসাবে গণ্য হইবেন এবং তিনি উত্থাপিত বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তিকল্পে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের শুনানি গ্রহণ ও কাগজপত্রাদি (যদি থাকে) পর্যালোচনান্তে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।
(৬) সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে আপোষ মীমাংসাকারী বা মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত প্রতিপালন সংশ্লিষ্ট পক্ষদের উপর বাধ্যতামূলক হইবে এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ব্যতীত আপোষ মীমাংসাকারী বা মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ইচ্ছা করিলে প্রতিকার চাহিয়া সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে শ্রম আদালতে আবেদন করিতে পারিবে।
(৭) ধারা ১৬১ (৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ঠিকাদারের পক্ষ হইতে কোন আচরণবিধির লংঘনের কারণে ঠিকাদার কর্তৃক প্রদেয় ক্ষতিপূরণের অংশ নির্ধারণের লক্ষ্যে মালিক মোট ক্ষতিপূরণ জমা প্রদানের রসিদসহ উহা জমা প্রদানের তারিখ হইতে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের নিকট আবেদন করিবেন।
(৮) মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক মালিক এবং ঠিকাদারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।
(৯) ধারা ১২৪(ক) ও ১৬১(৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মহাপরিদর্শক তাহার উপর অর্পিত ক্ষমতা লিখিতভাবে অফিস আদেশ দ্বারা এলাকা ভিত্তিক অন্য কোন পরিদর্শক বা পরিদর্শকগণকে প্রদান করিতে পারিবেন।
(১০) মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক ধারা ১২৪ (ক) অনুযায়ী নোটিস প্রদান করিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হইবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ — এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২; গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি
বাস্তবায়ন নির্দেশিকা
- করণীয়
- নগদ, চেক, অথবা শ্রমিক চাইলে ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং-এ মজুরি দেওয়া যায়। ডিজিটাল পেমেন্টে শ্রমিকের সম্মতি ও pay slip রাখুন (বিধি ১১১)।
- রেকর্ড
- Wage register (ফরম ৩৮), bank/MFS statement, pay slip।
নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।
EPZ-এর সাথে পার্থক্য
EPZ-এর সাথে পার্থক্য
BLA: নগদ, চেক, শ্রমিকের চাহিদায় ব্যাংক/ডিজিটাল পদ্ধতি। EPZ ধারা ৫৭: প্রবিধান এবং BEPZA-র আদেশ/সার্কুলার অনুযায়ী।
EPZ ধারা ৫৭ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ১২৪ · প্রচলিত মুদ্রা অথবা কারেন্সী নোট ইত্যাদি দ্বারা মজুরী পরিশোধ
১২৪। ১[(১)] সকল মজুরী প্রচলিত মুদ্রা, কারেন্সী নোট অথবা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করিতে হইবে।
২[(২) উপ-ধারা-(১) এ প্রবর্তিত পদ্ধতি ছাড়াও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শ্রমিকের চাহিদা মোতাবেক শ্রমিকের ব্যবহৃত ব্যাংক একাউন্টে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি পরিশোধ করা যাইবে।]
EPZ ধারা ৫৭ · মজুরি পরিশোধের পদ্ধতি
৫৭। (১) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে মালিক কর্তৃক শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করিতে হইবে।
(২) মালিককে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এতদুদ্দেশ্যে সময় সময় জারিকৃত আদেশ বা সার্কুলার অনুসরণ করিতে হইবে।