কতিপয় ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের কর্মে নিয়োগ নিষেধ
আইনের টেক্সট
৪৫৷ (১) কোন মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে সজ্ঞানে কোন নারীকে তাহার সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী ১[৬০ (ষাট) দিনের] মধ্যে কোন কাজ করাতে পারিবেন না।
(২) কোন নারী কোন প্রতিষ্ঠানে তাহার সন্ত্মান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী ২[৬০ (ষাট) দিনের] মধ্যে কোন কাজ করিতে পারিবেন না।
(৩) কোন মালিক কোন নারীকে এমন কোন কাজ করার জন্য নিয়োগ করিতে পারিবেন না যাহা দুষ্কর বা শ্রম-সাধ্য অথবা যাহার জন্য দীর্ঘতগণ দাঁড়াইয়া থাকিতে হয় অথবা যাহা তাহার জন্য হানিকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যদি-
(ক) তাহার এই বিশ্বাস করার কারণ থাকে, অথবা যদি নারী তাহাকে অবহিত করিয়া থাকেন যে, দশ সপ্তাহের মধ্যে তাহার সন্তান প্রসব করার সম্ভাবনা আছে;
(খ) মালিকের জানামতে নারী পূর্ববর্তী দশ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করিয়াছেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, চা-বাগান শ্রমিকের তেত্রে সংশ্লিষ্ট চা-বাগানের চিকিৎসক কর্তৃক যতদিন পযর্ন্ত সক্ষমতার সার্টিফিকেট পাওয়া যাইবে ততদিন পযর্ন্ত উক্ত শ্রমিক হালকা ধরণের কাজ করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ কাজ যতদিন তিনি করিবেন ততদিন তিনি উক্ত কাজের জন্য প্রচলিত আইন অনুসারে নির্ধারিত হারে মজুরী পাইবেন, যাহা প্রসূতি কল্যাণ ভাতার অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হইবে।
সংশোধনী টীকা (২)
- “৬০ (ষাট) দিনের” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী “আট সপ্তাহের” পরিবর্তে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন) এর ১৫ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
- “৬০ (ষাট) দিনের” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী “আট সপ্তাহের” পরিবর্তে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন) এর ১৫ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), ধারা ৪৫ — bdlaws.minlaw.gov.bd। সংকলিত পাঠ: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর) পর্যন্ত। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।
সংশ্লিষ্ট বিধি
সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২, গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২
গর্ভবতী মহিলা শ্রমিকের প্রতি মালিক ও অন্যান্য শ্রমিকের দায়িত্ব
— একজন গর্ভবতী মহিলা শ্রমিকের প্রতি মালিক ও অন্যান্য শ্রমিকের দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা:—
(ক) এমন কোন আচরণ বা মন্তব্য না করা যাহাতে তিনি শারীরিক বা মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন বা অপমানিতবোধ করেন ;
(খ) সরকার কর্তৃক ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অথবা তাহার স্বাস্থ্যের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ হয় এমন কোন কাজে নিয়োজিত না করা ;
(গ) ঝুঁকিবিহীন কাজে স্থানান্তর বা পদায়ন করা ;
(ঘ) কর্মকালীন লিফ্ট ব্যবহারে অগ্রাধিকার প্রদান করা ;
(ঙ) সন্তান প্রসব উত্তর কালে তাহার শিশুর দুগ্ধপানের সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রসূতি হইবার নোটিস
(১) ধারা ৪৭(১) মোতাবেক প্রয়োজনীয় নোটিস সন্তান প্রসবের পূর্বে ফরম-১৮ অনুযায়ী এবং ধারা ৪৭(২) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নোটিস সন্তান প্রসবের পরে ফরম-১৮(ক) মোতাবেক প্রদান করিতে হইবে।
(২) ধারা ৪৭(৪) মোতাবেক প্রসব পরবর্তী প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কোন প্রসূতি স্ব-শরীরে উপস্থিত হইয়া উহা গ্রহণে অপারগ হইলে তাহার নিকট হইতে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে উহা প্রদান করিতে হইবে।
(৩) শ্রমিক কর্তৃক মৌখিক নোটিস প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের উক্তরূপ ছুটি মঞ্জুরকারী কর্মকর্তা কর্তৃক বিষয়টি উপরি-উক্ত ফরমে লিপিবদ্ধ করিয়া উহাতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের স্বাক্ষর বা টিপসহি গ্রহণ করিতে হইবে।
(৪) প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা গ্রহণকারী শ্রমিকগণের তথ্য ফরম-১৯ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৫) ধারা ৪৫(৩) এর শর্তাংশ অনুযায়ী সন্তান-সম্ভবা শ্রমিক কর্তৃক প্রদত্ত সক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র ফরম-১৭ অনুযায়ী প্রদান করিতে হইবে।
(৬) প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা গ্রহণকারী শ্রমিকগণের তথ্য সম্বলিত মাসিক রিটার্ন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এবং বার্ষিক রিটার্ন পরবর্তী বৎসরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাখিল করিতে হইবে।
বিধি ৩৯ এর পর নিম্নরূপ নূতন বিধি ৩৯ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা: ‘‘৩৯ক। প্রসূতিকল্যাণ সুবিধা হিসাব।(১) ধারা ৪৮(২) অনুযায়ী প্রসূতিকল্যাণ সুবিধা হিসাব করিবার ক্ষেত্রে শ্রমিকের সর্বশেষ মাসিক প্রাপ্ত মোট মজুরিকে ২৬ দ্বারা ভাগ করিয়া ১ দিনের গড় মজুরি নির্ধারণ করিতে হইবে। (২) প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিলের বিধান থাকিলে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাভোগীর ভবিষ্য তহবিলে প্রদেয় চাঁদা তাহার প্রাপ্য সুবিধা হইতে আইনের বিধান অনুযায়ী কর্তন করিতে হইবে।’’;
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ — এস.আর.ও. নং ২৯১-আইন/২০১৫, বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত), ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৮৪-আইন/২০২২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২২; গেজেট ১ সেপ্টেম্বর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি
বাস্তবায়ন নির্দেশিকা
- করণীয়
- প্রসবের পর ৬০ দিন পর্যন্ত কাজে যোগ দিতে দেওয়া যাবে না, শ্রমিক নিজে চাইলেও নয়। প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের ১০ সপ্তাহ আগে থেকে ভারী কাজ, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে দিন।
- রেকর্ড
- Pregnancy register, job re-assignment record (কোন কাজ থেকে কোন কাজে), welfare officer/নার্সের follow-up নোট।
- Audit-এ দেখা হয়
- Pregnant worker-কে iron, finishing-এর দাঁড়িয়ে কাজ বা heavy lifting-এ রাখা হয়েছে কি না; HR policy-তে ১০ সপ্তাহের নিয়ম লেখা আছে কি না।
নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।
EPZ-এর সাথে পার্থক্য
EPZ-এর সাথে পার্থক্য
BLA: প্রসবের পর ৬০ দিন কাজ করানো নিষেধ (২০২৬ সংশোধন)। EPZ ধারা ২৯: প্রসবের পর ৮ সপ্তাহ।
EPZ ধারা ২৯ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ৪৫ · কতিপয় ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের কর্মে নিয়োগ নিষেধ
৪৫৷ (১) কোন মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে সজ্ঞানে কোন নারীকে তাহার সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী ১[৬০ (ষাট) দিনের] মধ্যে কোন কাজ করাতে পারিবেন না।
(২) কোন নারী কোন প্রতিষ্ঠানে তাহার সন্ত্মান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী ২[৬০ (ষাট) দিনের] মধ্যে কোন কাজ করিতে পারিবেন না।
(৩) কোন মালিক কোন নারীকে এমন কোন কাজ করার জন্য নিয়োগ করিতে পারিবেন না যাহা দুষ্কর বা শ্রম-সাধ্য অথবা যাহার জন্য দীর্ঘতগণ দাঁড়াইয়া থাকিতে হয় অথবা যাহা তাহার জন্য হানিকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যদি-
(ক) তাহার এই বিশ্বাস করার কারণ থাকে, অথবা যদি নারী তাহাকে অবহিত করিয়া থাকেন যে, দশ সপ্তাহের মধ্যে তাহার সন্তান প্রসব করার সম্ভাবনা আছে;
(খ) মালিকের জানামতে নারী পূর্ববর্তী দশ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করিয়াছেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, চা-বাগান শ্রমিকের তেত্রে সংশ্লিষ্ট চা-বাগানের চিকিৎসক কর্তৃক যতদিন পযর্ন্ত সক্ষমতার সার্টিফিকেট পাওয়া যাইবে ততদিন পযর্ন্ত উক্ত শ্রমিক হালকা ধরণের কাজ করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ কাজ যতদিন তিনি করিবেন ততদিন তিনি উক্ত কাজের জন্য প্রচলিত আইন অনুসারে নির্ধারিত হারে মজুরী পাইবেন, যাহা প্রসূতি কল্যাণ ভাতার অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হইবে।
EPZ ধারা ২৯ · প্রসূতিকালীন মহিলা শ্রমিকের কর্মে নিয়োগ নিষিদ্ধ
২৯। (১) কোনো মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে কোনো মহিলা শ্রমিককে তাহার সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী ৮ (আট) সপ্তাহের মধ্যে কোনো কাজ করাইতে পারিবেন না।
(২) কোনো মহিলা শ্রমিক কোনো প্রতিষ্ঠানে তাহার সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী ৮ (আট) সপ্তাহের মধ্যে কোনো কাজ করিতে পারিবেন না।
(৩) কোনো মালিক কোনো মহিলা শ্রমিককে এমন কোনো কাজ করিবার জন্য নিয়োগ করিতে পারিবেন না যাহা দুষ্কর বা শ্রম-সাধ্য অথবা যাহার জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াইয়া থাকিতে হয় অথবা যাহা তাহার জন্য স্বাস্থ্য হানিকর হইবার সম্ভাবনা থাকে, যদি তাহার এই বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে, অথবা যদি মহিলা শ্রমিক তাহাকে অবহিত করিয়া থাকেন যে, ১০ (দশ) সপ্তাহের মধ্যে তাহার সন্তান প্রসব করিবার সম্ভাবনা আছে অথবা পূর্ববর্তী ১০ (দশ) সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করিয়াছেন।