শ্রমিক কর্তৃক চাকরির ইস্তফা
আইনের টেক্সট
২৩। (১) কোনো স্থায়ী শ্রমিক মালিককে ৩০ (ত্রিশ) দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া চাকরি হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন।
(২) অস্থায়ী বা অন্য কোনো শ্রমিক ১৫ (পনেরো) দিনের লিখিত নোটিশ মালিকের নিকট প্রদান করিয়া চাকরি হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন।
(৩) যেক্ষেত্রে শ্রমিক বিনা নোটিশে চাকরি হইতে ইস্তফা দিতে চাহেন সেক্ষেত্রে, তিনি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশ মেয়াদের জন্য মজুরির সমপরিমাণ অর্থ মালিককে প্রদান করিয়া ইহা করিতে পারিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোন স্থায়ী শ্রমিক চাকরি হইতে ইস্তফা দেন সেক্ষেত্রে, মালিক উক্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বৎসরের চাকরির জন্য-
(ক) যদি তিনি পাঁচ বৎসর বা তদূর্ধ্ব, কিন্তু দশ বৎসরের কম মেয়াদে অবিচ্ছিন্নভাবে মালিকের অধীন চাকরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ১৫ (পনেরো) দিনের মজুরি;
(খ) যদি তিনি দশ বৎসর বা তদূর্ধ্ব সময় কিন্তু পঁচিশ বছরের কম সময় মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে চাকরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ৩০ (ত্রিশ) দিনের মজুরি।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হইবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ (২০১৯ সনের ২ নং আইন), ধারা ২৩ — bdlaws.minlaw.gov.bd। bdlaws-এ প্রকাশিত পাঠ (সংগ্রহের দিন পর্যন্ত কোনো সংশোধনী টীকা নেই)। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬।
সংশ্লিষ্ট বিধি
কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে শ্রমিক কর্তৃক ইস্তফা
(১) কোনো শ্রমিক বিনা নোটিশে অথবা বিনা অনুমতিতে ১০ (দশ) দিনের অধিককাল কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকিলে মালিক উক্ত শ্রমিককে ১০ (দশ) দিনের সময় প্রদান করিয়া এই সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদানসহ চাকরিতে পুনরায় যোগদানের জন্য নোটিশ প্রদান করিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান বা চাকরিতে যোগদান না করিলে মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আরও ৭ (সাত) দিন সময় প্রদান করিবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক চাকরিতে যোগদান অথবা আত্মপক্ষ সমর্থন না করিলে উক্ত শ্রমিক অনুপস্থিতির দিন হইতে চাকরিতে ইস্তফা দিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।
(৩) উপ-বিধি (২) এর বিধান অনুযায়ী কোনো শ্রমিককে ইস্তফা প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইলে মালিক আইনের ধারা ২৩(৩) এর বিধান অনুযায়ী নোটিশের সমপরিমাণ অর্থ সমন্বয়পূর্বক আইনের ধারা ২৩(৪) এর বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণসহ অবশিষ্ট অর্থ শ্রমিককে প্রদান করিবেন।
নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয় বা ক্ষতির কারণে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক
(১) আইনের ধারা ১৭৭ অনুযায়ী কোনো আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয় বা জরুরি প্রয়োজনে কোনো শিল্প স্থানান্তর বা কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হইলে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক হইবে নিম্নরূপ, যথা:
(ক) কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হইবার ক্ষেত্রে: (অ) আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয় বা জরুরি প্রয়োজনে মালিক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী পরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতা প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (৩) তিন কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ফরম-১৩ অনুযায়ী যাবতীয় তথ্যাদি অবহিত করিতে হইবে; (আ) মালিক শ্রমিককে ছাঁটাই করিবেন এবং আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ ক্ষেত্রে কোনো শ্রমিক, আইনের ধারা ১৯(২)(ক) অনুয়ায়ী, নোটিশ প্রাপ্ত হইবে না বা নোটিশের পরিবর্তে মজুরি পাইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হইবার সম্ভাবনা থাকিলে, মালিক কারখানা বা প্রতিষ্ঠান লে-অফ ঘোষণা করিতে পারিবেন; (ই) শ্রমিককে মালিক তাহার অধীন একই ধরনের অন্য প্রতিষ্ঠানে সমপদে কাজে নিয়োজিত করিতে চাহিলে দফা (খ)-তে বর্ণিত বিধান প্রযোজ্য হইবে; (ঈ) উক্ত কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তাহা স্থায়ীভাবে বন্ধ না করিয়া মালিক ইচ্ছা করিলে আইনের ধারা ১১ অনুযায়ী কাজ বন্ধ রাখিতে পারিবেন এবং সেইক্ষেত্রে আইনের ধারা ১৫ অনুযায়ী শ্রমিক লে-অফ বেনিফিট প্রাপ্য হইবেন; (উ) পাওনা নির্ধারণের ব্যাপারে কোনো আপত্তি বা বিরোধ উদ্ভূত হইলে নির্বাহী পরিচালক অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি, মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতি (যদি থাকে) অথবা, শ্রমিক কল্যাণ সমিতি না থাকিলে, সাধারণ শ্রমিকের সহিত আলোচনাক্রমে শ্রমিকের পাওনা নির্ধারণ করিবেন; এবং (ঊ) আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয় বা জরুরি প্রয়োজন বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হইলে বিষয়টি নির্বাহী পরিচালক নিষ্পত্তি করিবেন, যা উভয়পক্ষের জন্য প্রতিপালনীয় হইবে।
ব্যাখ্যা: এই দফায় ‘অভিযোগ’ উত্থাপন বলিতে আপত্তি জানিয়ে নির্বাহী পরিচালকের নিকট লিখিত দরখাস্ত করাকে বুঝাইবে।
(খ) কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে: (অ) কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সীমানা হইতে
(১) একই জোনের অভ্যন্তরে স্থানান্তর করা হইলে, যদি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক স্থানান্তরিত স্থানে যাইতে ইচ্ছুক না হন তবে উক্ত শ্রমিক আইনের ধারা ২৩(৪) অনুযায়ী সুবিধা পাইবেন;
(২) এক জোন হইতে অন্য জোনে স্থানান্তর করা হইলে, যদি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক স্থানান্তরিত স্থানে যাইতে ইচ্ছুক না হন তবে উক্ত শ্রমিক আইনের ধারা ১৯(২)(ক) অনুযায়ী সুবিধা পাইবেন;
(৩) জোনের অভ্যন্তর থেকে জোনের বাহিরে ৪০ (চল্লিশ) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে উহা স্থানান্তর করা হইলে, যদি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক স্থানান্তরিত স্থানে যাইতে ইচ্ছুক না হন তবে উক্ত শ্রমিক আইনের ধারা ২৩(৪) অনুযায়ী সুবিধা পাইবেন;
(৪) জোনের অভ্যন্তর থেকে জোনের বাহিরে ৪০ (চল্লিশ) কিলোমিটার অধিক দূরত্বে উহা স্থানান্তর করা হইলে, যদি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক স্থানান্তরিত স্থানে যাইতে ইচ্ছুক না হন তবে উক্ত শ্রমিক আইনের ধারা ১৯(২)(ক) অনুযায়ী সুবিধা পাইবেন; (আ) শ্রমিক স্থানান্তরিত স্থানে যোগদান করিলে তাহার চাকরির আইনের ধারাবাহিকতা, মজুরি, পদবি ও চাকরির অন্যান্য শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকিবে; (ই) কারখানা স্থানান্তর ও পাওনা নির্ধারণ বা পরিশোধের ব্যাপারে কোনো আপত্তি বা বিরোধ উদ্ভূত হইলে নির্বাহী পরিচালক অথবা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতি (যদি থাকে) সহিত আলোচনাক্রমে বা শ্রমিক কল্যাণ সমিতি না থাকিলে সাধারণ শ্রমিকের সহিত আলোচনাক্রমে কারখানা স্থানান্তর ও শ্রমিকের পাওনা নির্ধারণ করিবেন; এবং (ঈ) মালিক কর্তৃক কারখানা বা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরিত স্থানের ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্যাদি নির্বাহী পরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭ (সাত) দিনের মধ্যে ফরম-১৩ অনুযায়ী নোটিশ আকারে জানাইতে হইবে।
(গ) কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বা শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে: (অ) হস্তান্তরিত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কাজ করিতে ইচ্ছুক হইলে তাহার চাকরির আইনের ধারাবাহিকতা, মজুরি, পদবি ও চাকরির অন্যান্য শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকিবে; (আ) হস্তান্তরিত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকরা কাজ করিতে ইচ্ছুক না হইলে শ্রমিক আইনের ধারা ২৩ এর বিধান অনুযায়ী সুবিধা প্রাপ্য হইবেন; (ই) হস্তান্তর গ্রহীতা মালিক শ্রমিকের দায় গ্রহণ করিতে না চাহিলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হইবার পূর্বেই পূর্বতন মালিক শ্রমিকের ছাঁটাই করিবেন এবং আইনের ধারা ১৯ বিধান অনুযায়ী আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করিবেন; (ঈ) কোনো বকেয়া পাওনার ক্ষেত্রে পূর্বতন ও নূতন মালিকের মধ্যে ভিন্ন চুক্তির অবর্তমানে নূতন মালিক উহার দায়ভার বহন করিবেন; (উ) কারখানা হস্তান্তর ও পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কোনো আপত্তি বা বিরোধ উদ্ভূত হইলে সেইক্ষেত্রে পূর্বতন ও নূতন মালিক নির্বাহী পরিচালকের নিকট আবেদন করিবেন অথবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কল্যাণ সমিতি (যদি থাকে) এর সহিত আলোচনাক্রমে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করিবেন; এবং (ঊ) নূতন মালিক কর্তৃক কারখানা বা প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের যাবতীয় তথ্যাদি নির্বাহী পরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করিতে হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কারখানা বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ অথবা মালিকানা বা শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) এই বিধিমালার অন্যত্র যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আইনের ধারা ১৭৭ এর বর্ণনামতে স্থায়ীভাবে বন্ধ হইয়া যাওয়া কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিকট শ্রমিকের পাওনা ও কর্তৃপক্ষের পাওনা যদি থাকে, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ সেই পাওনা সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান বা মালিকের সহিত সম্পাদিত ইজারা চুক্তিতে বর্ণিত পন্থায়, সরকারি দাবি হিসাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আদায় করিতে পারিবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি
বাস্তবায়ন নির্দেশিকা
- নোটিশ
- স্থায়ী ৩০ দিন, অন্যরা ১৫ দিন; নোটিশ ছাড়া গেলে নোটিশ মেয়াদের মজুরি সমন্বয়।
- ক্ষতিপূরণ
- প্রতি পূর্ণ বছরে: ৫ থেকে ১০ বছরের কম চাকরিতে ১৫ দিন, ১০ থেকে ২৫ বছরের কম চাকরিতে ৩০ দিনের মজুরি। ৫ বছরের কম হলে আইনে ক্ষতিপূরণ নেই।
নির্দেশিকা ব্যবহারিক সহায়তার জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। Buyer code আইনের চেয়ে কঠোর হলে কঠোরটি মানুন।
BLA-এর সাথে পার্থক্য
BLA-এর সাথে পার্থক্য
ইস্তফার নোটিশ: BLA স্থায়ী ৬০ দিন, EPZ ৩০ দিন (অন্যান্য ১৫ দিন)। ক্ষতিপূরণ: BLA (২০২৬) ৩ বছর পর্যন্ত বছরে ৭ দিন, ৩–১০ বছর ১৫ দিন, ১০+ বছর ৩০ দিন; EPZ ৫–১০ বছর ১৫ দিন, ১০–২৫ বছর ৩০ দিন।
BLA ধারা ২৭ পাশাপাশি দেখুন
BLA ধারা ২৭ · শ্রমিক কর্তৃক চাকুরীর অবসান
২৭৷ (১) কোন স্থায়ী শ্রমিক মালিককে ষাট দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া তাহার চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন৷
(২) কোন অস্থায়ী শ্রমিক-
(ক) মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিকের ক্ষেত্রে, ত্রিশ দিনের,
(খ) অন্য শ্রমিকের ক্ষেত্রে, চৌদ্দ দিনের,
লিখিত নোটিশ মালিকের নিকট প্রদান করিয়া তাহার চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন৷
(৩) যে ক্ষেত্রে শ্রমিক বিনা নোটিশে চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে চাহেন সে ক্ষেত্রে, তিনি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশ মেয়াদের জন্য মজুরীর সমপরিমাণ অর্থ মালিককে প্রদান করিয়া ইহা করিতে পারিবেন৷
১[ (৩ক) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শ্রমিক বিনা নোটিশে অথবা বিনা অনুমতিতে ১০ দিনের অধিক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকিলে মালিক উক্ত শ্রমিককে ১০ দিনের সময় প্রদান করিয়া এই সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করিতে এবং চাকুরীতে পুনরায় যোগদানের জন্য নোটিশ প্রদান করিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান বা চাকুরীতে যোগদান না করিলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে তাহার আত্নপক্ষ সমর্থনের জন্য আরো ৭দিন সময় প্রদান করিবেন। তাহাতেও যদি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক চাকুরীতে যোগদান অথবা আত্নপক্ষ সমর্থন না করেন তবে, উক্ত শ্রমিক অনুপস্থিতির দিন হইতে ২[ চাকুরি হইতে ইস্তফা দিয়াছেন] বলিয়া গণ্য হইবেন।]
৩[(৪) যেক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোনো স্থায়ী শ্রমিক চাকুরি হইতে ইস্তফা দেন, সেক্ষেত্রে, মালিক উক্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বৎসরের চাকুরির জন্য-
(ক) যদি তিনি ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে মালিকের অধীন চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ৭ (সাত) দিনের মজুরি;
(খ) যদি তিনি ৩ (তিন) বৎসরের বেশি কিন্তু ১০ (দশ) বছরের কম মেয়াদে মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ১৫ (পনের) দিনের মজুরি;
(গ) যদি তিনি ১০ (দশ) বৎসর বা তদূর্ধ্ব সময় মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ৩০ (ত্রিশ) দিনের মজুরি, অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন, এবং ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হইবে।]
EPZ ধারা ২৩ · শ্রমিক কর্তৃক চাকরির ইস্তফা
২৩। (১) কোনো স্থায়ী শ্রমিক মালিককে ৩০ (ত্রিশ) দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া চাকরি হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন।
(২) অস্থায়ী বা অন্য কোনো শ্রমিক ১৫ (পনেরো) দিনের লিখিত নোটিশ মালিকের নিকট প্রদান করিয়া চাকরি হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন।
(৩) যেক্ষেত্রে শ্রমিক বিনা নোটিশে চাকরি হইতে ইস্তফা দিতে চাহেন সেক্ষেত্রে, তিনি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশ মেয়াদের জন্য মজুরির সমপরিমাণ অর্থ মালিককে প্রদান করিয়া ইহা করিতে পারিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোন স্থায়ী শ্রমিক চাকরি হইতে ইস্তফা দেন সেক্ষেত্রে, মালিক উক্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বৎসরের চাকরির জন্য-
(ক) যদি তিনি পাঁচ বৎসর বা তদূর্ধ্ব, কিন্তু দশ বৎসরের কম মেয়াদে অবিচ্ছিন্নভাবে মালিকের অধীন চাকরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ১৫ (পনেরো) দিনের মজুরি;
(খ) যদি তিনি দশ বৎসর বা তদূর্ধ্ব সময় কিন্তু পঁচিশ বছরের কম সময় মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে চাকরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ৩০ (ত্রিশ) দিনের মজুরি।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হইবে।