বিধি ১১৯ — মজুরি ও উহার রেকর্ড সংরক্ষণ
মজুরি ও উহার রেকর্ড সংরক্ষণ
(১) প্রতিটি কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল শ্রমিকের শ্রমিক রেজিস্টারের ক্রমানুসারে মজুরিকাল অনুযায়ী মজুরি পরিশোধের বিষয়সমূহ ফরম-৪৭ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং মজুরি পরিশোধের জন্য মালিক বা তৎকর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাহার সুবিধা অনুযায়ী উহা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, মজুরি পরিশোধকালে মুদ্রিত কপিতে রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার করিয়া শ্রমিকের স্বাক্ষর গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) যদি কোনো শ্রমিক, তাহার মজুরি তাহার ব্যাংক হিসাবে গ্রহণ করিতে ইচ্ছা পোষণ করেন, তবে মালিক উহা ব্যাংক চেক অথবা সরাসরি ব্যাংকে হস্তান্তর অথবা অন্য কোনো ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধ করিতে পারিবেন এবং মজুরি স্লিপ প্রদান করিবেন এবং এইক্ষেত্রে মালিক বা কারখানা ব্যবস্থাপনা মহিলা শ্রমিকের ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করিবে।
(৩) প্রতি মজুরি মেয়াদে প্রত্যেক শ্রমিককে মজুরি পরিশোধের পূর্বে মালিক ফরম-৪৭ অনুযায়ী একটি মজুরি স্লিপ প্রদান করিবেন।
(৪) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যে কোনো ধরনের শ্রমিককে কাজে নিয়োজিত করিবার সময় প্রদত্ত নিয়োগপত্রে তাহার মজুরি উল্লেখ করিতে হইবে।
(৫) ঠিকা হার বা ফুরনভিত্তিক (পিস রেট) মজুরির হিসাব হইবে নিম্নরূপ, যথা:
(ক) কারখানার ফ্লোর ইন-চার্জের মাধ্যমে শ্রমিকের নিকট হইতে প্রাথমিক ধারণা লইয়া ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বা মালিক ফুরনভিত্তিক (পিস রেট) মজুরি নির্ধারণ করিবেন;
(খ) ফুরনভিত্তিক (পিস রেট) মজুরি প্রদানকালে প্রত্যেক শ্রমিককে পে-স্লিপ প্রদান করিতে হইবে এবং পে-স্লিপে মজুরির খাতওয়ারী বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকিবে;
(গ) ফুরনভিত্তিক (পিস রেট) মজুরির হার সম্পর্কে কোনো আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকিবে;
(ঘ) আংশিক কাজের ক্ষেত্রে শ্রমিককে তাহার প্রাপ্য নির্ধারিত গ্রেডে ন্যূনতম মজুরিতে ঘাটিত থাকিলে উহা মালিক পূরণ করিয়া প্রদান করিবেন;
(ঙ) কাজের স্বল্পতার কারণে কোনো মাসে কোনো শ্রমিক মাসের সকল কর্মদিবসে উপস্থিত থাকিবার পরও নির্ধারিত গ্রেড অনুযায়ী প্রাপ্য ন্যূনতম মজুরি অপেক্ষা নিম্ন মজুরি প্রদান করা হইলে কারখানা কর্তৃপক্ষকে উহা পরিশোধ করিতে হইবে;
(চ) গ্রেডে প্রাপ্য মজুরি বা ফুরনভিত্তিক (পিস রেট) মজুরির মধ্যে যাহা অধিক হইবে শ্রমিককে সেই মজুরি প্রদান করিতে হইবে;
(ছ) কারখানায় যদি পূর্ণ মাস কাজে না থাকে তাহা হইলে শ্রমিকের নির্ধারিত গ্রেডের প্রাপ্য মূল মজুরি প্রদান করিতে হইবে;
(জ) ফুরনভিত্তিক (পিস রেট) মজুরি বিষয়ক বিধানসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হইবার বিষয়টি অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নজরদারী করিবে।
সংশ্লিষ্ট ধারা (বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯): ধারা ৫৪ · ধারা ৫৭
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা, ২০২২ — এস.আর.ও. নম্বর ২৯৫-আইন/২০২২, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২; গেজেট ৪ অক্টোবর ২০২২। যাচাই: ০৭ অক্টোবর ২০২৬। যাচাই পদ্ধতি